

উখিয়া-টেকনাফ কি অবশেষে প্রথম মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, এমন প্রশ্ন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। কক্সবাজার-৪ আসন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত, রোহিঙ্গা সংকট, মাদকবিরোধী অভিযান ও ভূরাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বাধীনতার পর এই অঞ্চল সরাসরি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পায়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী, সাবেক হুইপ ও চারবারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জেলা পর্যায়ে প্রভাব, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং নির্বাচনী ধারাবাহিকতা তাকে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় প্রার্থী হিসেবে তৈরি করেছে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী মনে করেন, শাহজাহান চৌধুরী শুধু দলের সিনিয়র নেতা নন, তিনি কক্সবাজার জেলার রাজনীতিরও অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যক্তি। সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্র যদি কাউকে অগ্রাধিকার দেয়, তিনি হতে পারেন সেই মুখ।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি সাতবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, রাজনৈতিক উত্থান-পতন পেরিয়ে এখনো মাঠে সক্রিয়। এমন ধারাবাহিকতা খুব কম নেতার রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হাসান সিদ্দিকী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যখন দলের অনেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তখন শাহজাহান চৌধুরী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে থেকে সংগঠন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় পর্যায়ে বিবেচিত হতে পারে।
সম্প্রতি উখিয়ার কোটবাজারে অনুষ্ঠিত শাহজাহান চৌধুরীর জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ উপস্থিত হয়ে বলেন, শাহজাহান চৌধুরী একজন বর্ষীয়ান নেতা। তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি, আমার বড় ভাই। তিনি বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে আবার নির্বাচিত করলে তিনি আরও বেশি সম্মানিত হবেন।
জনসভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন। উখিয়া উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য যখন প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করেন, তখন সেটা শুধু আনুষ্ঠানিক প্রশংসা নয়। এতে বোঝা যায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার মূল্যায়ন রয়েছে।
টেকনাফের যুবদল নেতা আব্দুস সালাম যোগ করেন, আমরা মনে করি, শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হলে দলীয় সরকার গঠিত হলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ ভোটাররাও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী।
উখিয়ার রাজাপালংয়ের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের আসনটি রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। যদি একজন শক্তিশালী নেতা মন্ত্রী হন, তাহলে এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধান দ্রুত হতে পারে।
টেকনাফের শিক্ষক আলী আহমেদ বলেন, মন্ত্রী পাওয়া মানে শুধু পদ নয়, বরং নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশগ্রহণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে তখন আলাদা গুরুত্ব পাওয়া যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, কোনো আসন থেকে মন্ত্রী হওয়া নির্ভর করে দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের ফলাফল ও জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তি একজন প্রার্থীকে সেই দৌড়ে এগিয়ে রাখতে পারে।
শাহজাহান চৌধুরী নিজেও আশাবাদী। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত কথা বলবে। উখিয়া-টেকনাফের মানুষ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চায়, আমি সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি আপনাদের পাশে থাকব। আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাব না। তিনি ভোটারদের প্রতি বলেন, আগামীকাল আপনারা বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করবেন,কাকে ভোট দিলে রোহিঙ্গা ইস্যু, সীমান্ত সমস্যা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। যিনি এসব সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম, তাকেই আপনার মূল্যবান ভোট দিন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগেই সীমান্ত আসনে ‘মন্ত্রী সম্ভাবনা’ ইস্যু নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। উখিয়া-টেকনাফের জনগণ মনোযোগ দিচ্ছেন কেবল নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নয়, বরং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও এলাকার উন্নয়নের সম্ভাবনার দিকে।


পাঠকের মতামত